প্রিয় কুমিল্লা ডেক্স :
যদিও আজকের গল্পটা আমাদের নয় তবুও বলে রাখা প্রয়োজন রিংকু, সুহেল, নাছের, মানিক, মোশাররফ, মিজান, মাহবুব, জালাল এবং আমি সেই শৈশব থেকে এখনো একসাথে চলাফেরা করে আসছি। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায় অলৌকিকভাবে আমাদের দেখা হতো, আমরা একসাথে গল্প করতাম, গান গাইতাম এটাই ছিল আমাদের শৈশব। একই বয়সী এতগুলো ছেলে একসাথে চলাফেরা করতাম বলে সমাজের অনেকেই আমাদেরকে ভালো চোঁখে দেখতোনা তবে তাকে কি আমরা কখনোই এসবের তোয়াক্কা করিনি, হয়ত ভবিষ্যতেও করবোনা। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে অভ্যস্থ নই। শেষের কয়েকদিন আমার কিছু একটা হয়েছে, রাতে ঘুম হয় না, জীবনের কথা ভেবে সব সময় অস্থির অস্থির লাগে, তাই অস্থিরতার কাটাতে সাহস করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা থেকেই আমার এই লেখা। শৈশবে আমরা যখন একসাথে চলাফেরা করতাম মাসখানেক পর পর বন্ধু রিংকুকে দেখতাম ২/৩দিনের জন্য মিসিং। ২/৩ দিন পর যখন রিংকু আমাদের সাথে দেখা সাক্ষাত করতো তার বেশভূষা দেখে বুজতাম তার বাবা জনাব মজিবর রহমান খোকন কাকা ছুটিতে এসেছিলেন। মূলত আমার অস্থিরতা, নিদ্রাহীনতা জনাব মজিবর রহমান খোকন কাকাকে নিয়েই। তিনি পুলিশ এ চাকরি করতেন। নিজে এ পেশায় আছি বলেই আমি জানি ওনার জীবন কিভাবে কেটেছে, যাক সে সব কথা। কাকা নিজের স্ত্রী সন্তানদের বাড়িতে রেখে চাকরির সুবাধে সারা দেশ ঘুরেছেন। তিনি যখন চাকরি থেকে অবসরে আসলেন ততদিনে তার পূত্র সন্তান রাশেদুল হক রিংকু এবং সাজেদুল হক টিপু চাকরির সুবাধে বাড়ি ছাড়া, কন্যা সন্তাদেরও বিয়ে হয়ে গিয়েছিল অর্থাৎ কাকা যখন বাড়িতে আসলেন তখন তার অসুস্থ্য স্ত্রী ছাড়া আর কাউকেই তিনি কাছে পাননি। আজ ০৩ দিন হলো কাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এ লাইফ সাপোর্ট এ আছেন। প্রতিদিন ০৪টায় ওনার ছেলে রাশেদুল হক রিংকু ও সাজেদুল হক টিপু আইসিইউতে ওনার সাথে দেখা করতে যান কিন্তু কারোর সাথে কারো কথা হয়না। মজিবর রহমান খোকন কাকা ওনার জীবনে কতদিন স্ত্রী সন্তানদের সাথে সময় কাটিয়েছেন, ওনার সন্তান রিংকু এবং টিপু কতদিন তার বাবাকে বাবা বলে ডেকেছেন এই হিসাব যখন আমার মগজে প্রবেশ করেছে তখন থেকেই আমার অস্থিরতা, নিদ্রাহীনতা শুরু হয়েছে। আচ্ছা আমরা কি ইচ্ছে করেই আমাদের জীবনটা কঠিন করে ফেলছি নাকি জীবটা আসলেই কঠিন?
কাকার জন্য দোয়া রইল, তিনি সুস্থ্য হয়ে ফিরে এসে স্ত্রী সন্তানদের সাথে কাটানো সময় আরো দীর্ঘ করে তুলবেন।
সওকত মাসুদ
